Bangla

ভাষা
মানুষ মননশীল । সে ভাবে তাঁর ভাবনা অন্যের কাছে জানাতে চায় । মানুষ তাঁর মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য হাত, পা, চোখ, ইত্যাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাহায্যে মানুষ যত বেশী পরিসাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারে । ইঙ্গিতের সাহয্যে মাত্র গুটি কয়েক আঙ্গিক মুদ্রা সৃষ্টি করা যায় । আর কন্ঠ ধ্বনির সহায়তায় মানুষ মনের সূ্ক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবও প্রকাশ করতে সমর্থ হয় । কন্ঠধ্বনি বলতে মুখগহর্‌, কন্ঠ, নাসিকা, ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত বোধগম্য ধ্বনিসমষ্টিকে বোঝায় । এ ধ্বনিই ভাষার অঙ্গ ।
মনোভাব প্রকাশের জন্য জীবিত মানুষের স্বেচ্ছাকৃত ফুসফুস তাড়িত বায়ু গলনালী, মুখবিবর, কন্ঠ, জিহবা, তালু, দাঁত, ওষ্ঠ, নাক প্রভৃতি বাড়যন্ত্রের সহায়তায় ও মাধ্যমে বেরিয়ে আসার সময় যে আওয়াজ বা ধ্বনির সৃষ্টি হয় তার নাম ভাষা।

দেশ, কাল ও পরিবেশ ভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে । বর্তমানে পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজারের উপর ভাষা প্রচলিত আছে । তার মধ্যে বাংলা একটি ভাষা । ভাষা ভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর পঞ্চম স্থানীয় ভাষা ।
আমরা বাংলাদেশের অধিবাসী । আমাদের মাতৃভাষা বাংলা । বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিম বঙ্গের জনসাধারণ এবং বিহার ত্রিপুরা, উড়িষ্যা, ও আসামের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা বাংলা । বর্তমানে পৃধিবীতে প্রায় ছাব্বিশ কোটি মুখের ভাষা বাংলা ।

*কথ্য, চলিত, ও সাধু রীতি ।

পৃথিবীর সব ভাষারই উপভাষা আছে । বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ সে সে অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে । এগুলো আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা ।
বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাভাষিদের মধ্যে ভাষার আদান-প্রদানে অন্তরায় দেখা দিতে পাড়ে । সে কারণে দেশের শিক্ষিত ও পন্ডিত সমাজ একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন । বাংলা ভাষাভাষী বিভিন্ন জনগণ এ আদর্শ ভাষায়ই পারস্পরিক আলাপ আলোচনা ও ভাবের আদান-প্রদান করেন । বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার কথ্য রিতী সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহুত এ ভাষাই আদর্শ চলিত ভাষা ।
পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষারই দুটো রীতি লক্ষ করা যায় । একটি বলার রীতি, একে বলা যায় ভাষার কথ্য মৌখিক রুপ । আর একটি লেখার রীতি । লিখিত রুপকে বলা হয় লেখ্য বা লৈখিক রূপ ।
ভাষায় অভিব্যক্ত মৌখিক বা কথ্য রুপ ও লৈখিক বা লেখা রূপ, এ দুটো রুপেরই প্রাধান্য রয়েছে । ভাষায় মৌখিক রুপের আবার রয়েছে দুটো রীতি : একটি সর্বজনস্বীকৃত শিষ্টজন কথিত আদর্শ চলিত ভাষা Standard Colloquial Language অপরটি আঞ্চলিক কথ্য উপভাষা Local Colloquial Dialect বা আঞ্চলিক কথ্যরীতি Local Colloquial Style. ।

লৈখিক বা লেখা রুপেরও রয়েছে দুটো রীতিঃ- একটি আদর্শ চলিতরীতি Standard Colloquial Style অপরটি সর্বজন স্বীকৃত লেখ্যরুপ বা সাধুরীতি Standard Written From ।

*সাধুরীতি ও চলিতরীতির বিকাশ ও শ্রীবৃদ্ধি ।
বাংলা লেখ্য সাধু রীতির নমুনা মধ্যযুগের সামান্য দলিল দস্তাবেজে পাওয়া গেলেও প্রকৃত বাংলা গদ্য্যরুপ ইংরেজদের আগমণের পরে বিকাশ লাভ করে । আঠার উনিশ শতকে বিশেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়, প্রমুখ কয়েকজন গদ্য লেখকের চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে সাহিত্যের বাহন হিসেবে গদ্য সুষ্ঠু সুন্দর প্রকাশ মাধ্যমরুপে পরিশীলিত হয় । এ সাধুরীতিই অনেক দিন ধরে বহু চড়াই - উতরাই পেরিয়ে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে ।
এরপর প্রমথ চৌধুরি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের চেষ্টায় নদীয়া জেলার শান্তিপুর, কৃষ্ঞনগর অঞ্চলের শিক্ষিত শিষ্টজনের মুখের ভাষারীতিই সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে প্রসার লাভ করে । ভাষার এ রীতি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃত । কথাসাহিত্যে চলিত ফুটিয়ে তোলার জন্য আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগও লক্ষনীয়ভবে প্রসার লাভ করেছে । এমন দিন দূরে নেই যখন আঞ্চলিক ভাষা - রীতি বা উপভাষা (Dialect) ও সাহিত্যে সম্মানজনক স্থান করে নেবে ।

*সাধু ও চলিতরীতির পার্থখ্য ।
১. সাধুরীতি ।
ক. বাংলা লেখ্য সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুস্বরণ করে চলে এবং এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়
খ. এ রীতি গুরুগাম্ভীর ও অভিজাত্যের অধিকারী ।
গ. সাধুরীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী ।
ঘ. এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতির মেনে চলে ।

২. চলিতরীতি ।
ক. চলিতরীতি পরিবর্তনশীল ।
খ. চলিতরীতি কৃত্রিমতা বর্জিত ।
গ. চলিতরীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ।
ঘ. সাধুরীতির বহু কঠিন শব্দ, সর্বনাম, বিশেষণ ও ক্রিয়াপদ ইত্যাদি চলিতরীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রুপ লাভ করে ।
ঙ. এ রীতির কোনো লিখিত ব্যকরণ না থাকায় এর অনুসৃতি কষ্টসাধ্য । কিন্তু শিক্ষিত জনের লেখায় ও বলায় এ রুপেরই বেশী অনুশীলন লক্ষ করা যায় ।

*সাধু ও চলিত কথ্যরীতির উদাহারণ ।
পদ                  সাধুরীতি              চলিতরীতি //  পদ            সাধুরীতি             চলিতরীতি
বিশেষ্য              মস্তক                       মাথা       // ক্রিয়া          করিলেন                     করলেন
বিশেষ্য              জুতা                        জুতো      // ক্রিয়া           দেন নাই                    দেন নি
বিশেষ্য              তুলা                        তুলো      //  ক্রিয়া           পার হইয়া                  পেরিয়ে
বিশেষণ            শুষ্ক/শুকনা               শুকনো     //  ক্রিয়া           পড়িল                       পড়লো
বিশেষণ             বন্য                        বুনো       //  ক্রিয়া           করিয়া                       করে
সর্বনাম             তাহারা                    তারা/ওরা  //  ক্রিয়া           ভাঙয়া যাইতে        ভেঙে যেতে লাগল
সর্বনাম            তাহাকে                    তাকে/ওকে                         লাগিল ।
সর্বনাম             তাহার                      তার          // ক্রিয়া          ফুটিয়া রহিয়াছে       ফুটে রয়েছে
ক্রিয়া              করিবার                   করবার/করার
ক্রিয়া             পাইয়াছিলেন              পেয়েছিলেন   // অব্যয়          পূর্বেই                      আগেই
ক্রিয়া               হইলেন                     হলেন          // অব্যয়         সহিত                      সঙ্গে/সাথে
ক্রিয়া               আসিয়া                     এসে
ক্রিয়া               হইল                       হল/হলো
ক্রিয়া               দেখিয়া                     দেখে

*বংলা ভাষার শব্দ ।
আমরা মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য বাক্যে কতগুলো শব্দ ব্যবহার করে থাকি । বস্তুত এগুলো মনের ভাব ও বস্তুর প্রতীক মাত্র । যেমনঃ- ছেলেটি রোজই খেলা করে । এ বাক্যে ‘ছেলেটি’ ‘রোজই’ ‘খেলা’ এবং ‘করে’ এগুলোর প্রত্রেকটিই এক একটি শব্দ ।
বাংলা ভাষা গোড়াপত্তনের যুগে সামান্য সংখ্যক শব্দ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নানা ভাষার সংস্পর্শে এসে এর শব্দ সম্ভার বহু পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে । বাংলাদেশে তুর্কি আগমন ও মুসলিম শাসন পতনের সুযোগে ক্রমে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ বাংলা ভায়ার নিজস্ব সম্পদে পরিণত পায়ছে ।
এরপর এল ইংরেজ শাসনামলেও তাদের নিজস্ব সাহিত্য এবং সাংস্কৃতির বহু শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ লাভ করে ।
বাংলা ভাষা ঐসব ভাষার শ্বদগুলোকে আপন করে ‍নিয়েছে । এভাবে বাংলা ভায়ায় যে শব্দসম্ভারের সমাবেশ হয়েছে । সেগুলোকে পন্ডিতগণ করেয়কটি ভাগে ভাগ করেছেন ।
১. তদ্‌ভব শব্দ ।
২.তৎসম শব্দ ।
৩.অর্ধ তৎসম শব্দ ।
৪.দেশী শব্দ ।
৫. বিদেশী শব্দ ।
১// তদ্‌ভব শব্দ । যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্‌ভব শব্দ ।
তদ্‌ভব একটি পারিভাষিক শব্দ । এর অর্থ ‘তৎ’ < তা > থেকে ‘ভব’ < উৎপন্ন > । যেমনঃ- সংস্কৃত - হস্ত । প্রাকৃত - হত্থ । তদ্‌ভব - হাত ।
সংস্কৃত - চর্মকার । প্রাকৃত - চম্মকার । তদ্‌ভব - চামার । এই তদ্‌ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয় ।
২// তৎমস শব্দ । যেসব ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রুপ অপরিবর্তিত রয়েছে ্ সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ । তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ । এর অর্থ ‘তৎ’ তার + ‘সম’ সমান = তাঁর সমান অর্থাৎ সংস্কৃত ।
উদাহারণঃ- চন্দ্র, সূর্য়, নক্ষত্র, ভন, ধর্ম, পত্র ইত্যাদি ।
৩// অর্ধ-তৎসম শব্দ । বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিত পরিবর্তিত আকারে ব্যবহুত হয় । এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ । তৎসম মানে সস্কৃত । অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত ।
উদাহারণঃ- জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, বোষ্টম, কুচ্ছিত, এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত জোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈষ্ঞব, কুৎসিত শব্দ থেকে আগত ।
৪// দেশী শব্দ । বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত হয়েছে । এ সব শব্দকে দেশী শব্দ নামে অভিহিত করা হয় ।
উদাহারণঃ- কুড়ি (বিশ), কোল ভাষা । পেট (উদর), তামিল ভাষা । চুলা ( উনুন), মুন্ডারী ভাষা ।
এরুপঃ- পঞ্জ, কুলা, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ডিঙ্গা, ঢেঁকি, ইত্যাদি আরও বহু দেশী শব্দ বাংলায় ব্যবহুত হয় ।
৫// বিদেশী শব্দ । রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে । এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশী শব্দ । এসব শব্দের সধ্যে আরবি, ফারসি, এবং ইংরেজি শব্দই বিবেশভাবে উল্লেখযোগ্য ।
(ক) আরবি শব্দঃ- বাংলায় ব্যবহুত আরবি শব্দগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় ।
১- ধর্মসংক্রান্ত শব্দ । আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবিহ, যাকাত, হজ্জ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি ।
২- প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ । আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি ।
(খ) ফারসি শব্দঃ- বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দ গুলোকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পরি ।
১- ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ । খোদা, গুনাহ, দোযখ, নামায, পয়গাম্বর, ফেরেশতা, বেহেশ্‌ত, রোযা ইত্যাদি ।
২- প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ । কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, না্যিলশ, বাদশহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ, ইত্যাদি ।
৩- বিবিধ শব্দ । আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাস, রফতানি, হাঙ্গামা, ইত্যাদি ।
(গ) ইংরেজী শব্দঃ- ইংরেজী শব্দ দু’প্রকারের পাওয়া যায় ।
১- অনেকটা খাটি ইংরেজী উচ্চারণেঃ- ইউনিভার্সিটি, ইউনিয়ন, কলেজ, টিন, নভেল, নোট, পাউডার, পেন্সিল, ফুটবল,ব্যাগ, মাস্টার, লাইব্রেরী, স্কুল ইত্যাদি ।
২- পরিবর্তিত উচ্চরণেঃ- আফিম (Opium), অফিস (Office), ইস্কুল (School), বাক্স (Box), বোতল (Bottle), হাসপাতাল (Hosspital), ইত্যাদি ।
(ঘ) ইউরোপিয় শব্দঃ-  ইংরেজী ছাড়া অন্যান্য ইউরোপিয় ভাষার শব্দ ।
১- পর্তুগিজ শব্দ । আনারস, আলপিন, আলমারি, গীর্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি, ইত্যাদি ।
২- ওলন্দাজ শব্দ । ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন, ইত্যাদি ।
৩- ফরাসি শব্দ । কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরা,  ইত্যাদি ।
(ঙ) অন্যান্য ভাষার শব্দঃ- অন্যান্য আরো ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় শব্দ এসেছে । নিম্নো উল্লেখ করা হলো ।
১- গুজরাটিঃ- খদ্দর, হরতাল, ইত্যাদি ।
২- পাঞ্জাবিঃ- চাহিদা, শিখ, ইত্যাদি ।
৩- তুর্কিঃ- চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা, ইত্যাদি ।
৪- চীনাঃ- চা, চিনি, ইত্যাদি ।
৫- জাপানিঃ- রিক্সা, হারিফিরি, ইত্যাদি ।

*বাংলা ভাষায় ব্যবহুত মিশ্র শব্দ ।
 প্রায় সমার্থক দুটো শব্দের মিলনে বাংলা ভাষায় এক প্রকার নতুন  ধরনের মিশ্র শব্দের ব্যবহার দেখা যায় । সেসব শব্দের সমাসবদ্ধ পদের মত নতুন শব্দের  ও অর্থের সৃষ্টি করে । কোনা কোনো সময় দেশি ও বিদেশী শব্দের মিলনেও এরুপ শব্দদ্বৈত সৃষ্টি করে থাকে ।
যেমনঃ- রাজা - বাদশা ( তৎসম +  ফারসি ), হাট - বাজার ( বাংলা + ফারসি ), হেড  - মৌলভী ( ইংরেজী + ফারসী )
হেড - পন্ডিত ( ইংরেজী + তৎসম ), খ্রিস্টাব্দ ( ইয়রেজী + তৎসম ), ডাক্তার - খানা ( ইংরেজী + ফারসি ), পকেট - মার
( ইংরেজী + বাংলা ), চৌ - হদ্দি ( ফারসি + আরবি ), ইত্যাদি ।

* কিছু পারিভাষিক শব্দ ।
বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশী শব্দের ভাবানুবাদ মূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে । এর বেশির ভাগই এ কালের প্রয়োগ ।
উদাহারণঃ- অম্লজান - Oxygen, উদ্‌যান - Hydrogen, নাথ - File, প্রশিক্ষণ - Training, ব্যবস্থাপক - Manager, বেতার - Radio, মহব্যবস্থাপক - General Manager, সচিব - Secretary, স্নাতক - Graduate, স্নতকোত্তর - Post Graduate, সমাপ্তি - Final, সাময়িকী - Periodical, সমীকরণ - Equation,

* বাংলা ব্যকরণ ও এর প্রয়োগবিধী সম্পর্কিত আলোচনা ।
ব্যাকরণ  = বি + আ + কৃ + অন ।   অর্থঃ- বিশেষ ভাবে বিশেষণ ।
* বাংলা ব্যকরণে আলচ্য বিষয় ।
প্রত্যেক ভাষারই তিনটি মৌলিক অংশ থাকে ।
১. ধ্বনি, Sound     ২. শব্দ, Word     ৩. বাক্য, Sentence.
 সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়েরর আলোচনা করা হয় ।
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonetics) ২. শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্ব (Morphology) ৩. বক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
এ ছাড়া ছন্দ ও অলঙ্কারকে ব্যাকরণের আনুষঙ্গিক আলোচ্য বিষয় বলে গণ্য করা হয় । ব্যাকরণের ‍উচ্চতর পর্যায়ে বাগর্ধ বিজ্ঞান বা অর্থতত্ত্ব (Semantics) এবং অভিধানতত্ত্ব (Lexicography) আলোচিত হয় ।
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonetics) মানুয়ের কাক প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কন্ঠনালি, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজ কে ধ্বনি বলা হয় । অথবা বাক প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষতম মৌলিক অংশ বা একক (Unit) কে ধ্বনি একক বলা হয় ।
* ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যকরণের ধ্বণিতত্ত্ব বিভাগের আলোচ্য বিষয় ।
২. রুপতত্ত্ব (Morphology) এক বা একাধিক ধ্বনি সম্মিলনে তৈরী হয় শব্দ (Word) ধ্বনি যেমন শব্দের ক্ষুদ্রতম একক (Small Unit) তেমনি শব্দ (Word) বা বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক ।
বাক্যে ব্যবহুত শব্দকে পদ বলে । বাক্যে ব্যবহুত শব্দ বা পদের বিভিন্ন গঠন প্রতিগত বিশেষণ করা হয় বলে বাংলা ব্যকরণের এ অংশকে বলা হয় রুপতত্ত্ব (Morphology) সাধরণত শব্দমূল, শব্দ, শব্দের বুৎপত্তি, শব্দের গঠন, বচন ও লিঙ্গ এবং ক্রিয়ামূল বা ধাতুবূপ, ক্রিয়ার কাল ‍ও পুরুষ ইত্যাদি ‘রুপতত্ত্ব’ বিভাগের আলোচ্য বিষয় ।
৩. বাক্যতত্ত্ব (Syntax) মানুষের বাকপ্রত্যঙ্গজাত ধ্বনি সমন্বয়ে গঠিত শব্দ সহযোগে সৃষ্ট পূর্ণ অর্থবোধক বাক্‌প্রবাহের বিশেষ অংশকে বলা হয় বাক্য (Sentence)
বাক্যের সঠিক গঠন - প্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রুপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় ‘বাক্যতত্ত্ব’ বিভাগে আলোচিত হয় । বাক্যের মধ্যে কোন পদের পর কোন পদ বসে, কোন পদের স্থান কোথায় বাক্যতত্ত্বে এসবের পূর্ণ বিশ্লেষণ থাকে । বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমত্ত বলা হয় ।
শব্দ সম্পর্কে কয়েকটি কথা ।
বৈয়াকরণগণ বিচার বিশ্লেষণ করে বাংলা ভাষার প্রত্যেকটি শব্দকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে সেসব ভাগকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন । এখানে প্রয়োজনীয় কয়েকটি সংজ্ঞা ও তার ব্যাখ্যা দেওয়া হল ।
* শব্দেকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায় । ১. মূল শব্দ বা প্রাতিপদিক শব্দ এবং ২. সাধিত শব্দ ।
১. মূল বা মৌলিক শব্দঃ- যে শব্দকে খন্ডিত বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে । যেমন - হাত, বই, কলম, ইত্যাদি ।
প্রাতিপদিকঃ- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে । যেমনঃ- হাত, বই, কলম, ইত্যাদি ।
২. সাধিত শব্দঃ- মৌলিক শব্দ ব্যতীত অন্য সব শব্দকেই সাধিত শব্দ বলে । যেমনঃ- হাতা, গোলপী, গরমিল, দম্পতি, ইত্যাদি ।
*সাধিত শব্দের প্রকারভেদ ।
সাধিত শব্দ দু’প্রকারঃ- ১. নাম শব্দ ও ২. ক্রিয়া । 
প্রত্যেকটি সাধিত শব্দের অর্থাৎ নাম শব্দ ও ক্রিয়ার দু’টো অংশ থাকে ।

প্রতৃতি ও পত্যয়। 
প্রকৃতিঃ- যে শব্দকে বা কোন শব্দের যে অংশেকে কোন ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে ।
যেমনঃ- হাত, ফুল, মুখ । এ শব্দ গুলোকে বলা হয় মৌলিক শব্দ, আর চল, জম, লিখ - এগুলোকে বলা হয় ক্রিয়ামূল বা ধাতু ।
আবার হাতল, মুখর, এ শব্দগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই - হাত + ল = হাতল, ফুল + এল = ফলেল (ফুল জাত), মুখ + র = মুখের (বাচাল) এখানে হাত, ফুল ও মুখ শব্দগুলোকে বলা হয় প্রকৃতি বা মূল অংশ । এগুলোর নাম প্রকৃতি ।

আবার চলন্ত, তজমা, লিখিত, এ শব্দগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই । চল + অন্ত = চলন্ত (চলমান), জম্‌ + আ = জমা ( সঞ্চিত), লিখ্‌ + ইত = লিখিত । এখানে চল, জম, লিখ, এ তিনটি ক্রিয়ামূল বা ক্রিয়ার মূল অংশ । এগুলোকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি ।
  
প্রত্যয়ঃ-শব্দ গঠনের উদ্দ্যেশ্যে শব্দ বা নাম প্রকৃতির এবং ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয়, তাকে প্রত্যয় বলে ।

 নাম প্রত্যয়
প্রত্যয়
প্রত্যয়ান্ত শব্দ









 ক্রিয়া প্রকৃতি
প্রত্যয়
প্রত্যয়ান্ত শব্দ











প্রত্যয় দু’প্রকারঃ-

No comments:

Post a Comment